CIRNN (Research-Letter)

١. بِسۡمِ ٱللهِ ٱلرَّحۡمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِِ


In the name of Allah, Most Gracious, Most Merciful.

٢. ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَـٰلَمِينَِ

2. Praise be to Allah,
The Cherisher and Sustainer of the Worlds;  

وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ

And We sent down Iron, In which is (material for) Mighty war, as well as Many benefits for mankind, 

কেন বিজ্ঞানে আমাদের  পুনরুজ্জীবনের আকাঙ্খা?

বিজ্ঞানে আমাদের সোনালী অতীতের স্মৃতিচারণ করে বেশ স্বাচ্ছন্দে আমরা মুসলিমরা আমাদের জীবন অতিবাহিত করতে অভ্যস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু বিজ্ঞানে আমাদের নিস্ক্রিয়তার কারণে আমরা বহুমুখী সমালোচনার পাত্রে পরিণত হচ্ছি। শুধু তাই নয়, আমাদের আত্মমর্যাদা নিয়ে অমুসলিমদের মধ্যে একটা নেতিবাচক মিথ বা বদ্ধমূল ধারণা এ মর্মে জন্ম নেয় যে, আমরা অবৈজ্ঞানিক জাতি, আমাদের ধর্ম ইসলাম বিজ্ঞানকে নিরুৎসাহিত করে, আমরা চেতনাবিহীন এক ক্লীব জাতিসত্বা। যার কারণে সকল প্রাণী সুখী হোক, জীব হত্যা মহাপাপ- এই মতের অনুসারীরাও ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত কায়দায় মুসলিম হত্যা করে। জিজ্ঞাসিত হলে বলা হয়, “মুসলমানদের প্রাণ নেই”, “মুসলমানরা জীব নয়” ইত্যাদি। তারও আগে এক অমুসলিম শিক্ষক ২০১০ সালে পাঠ্য বহির্ভূত এক আলোচনায় বলেছিলেনঃ এখন সময় হয়েছে আল্লাহ-কে হাতমোড়া করে বেঁধে রাখার। কারণ উল্লেখ করে বলেনঃ আল্লাহ অবৈজ্ঞানিক কুরআন রচনা করেছেন। অন্যত্র এর পর পরই বলা হয়ঃ কুরআন ছাড়ো, বিজ্ঞান পড়ো। সম্ভবতঃ এরা উত্তরাধিকারীসূত্রে অর্জিত মীথের কারণে, নয়তো ইসলাম এবং মুসলমান সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে আমাদের মধ্যযুগীয় সোনালী বৈজ্ঞানিক অবদানকে ভুলে বসে ইসলাম এবং মুসলমানদেরকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা আরোপ করতেও কুন্ঠা বোধ করে না যা সত্যিই দুঃখজনক। 

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, কোনো একটি মুসলিম দেশে মোতায়েন বহুজাতিক বাহিনীর এক সদস্যের নির্ভিক মন্তব্য, “একজন মুসলিমকে গুলি করে আমরা পাখি শিকারের সুখ লাভ করি”। সম্ভবতঃ এসব মিথের বশবর্তি হয়ে মুসলিম জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নিছক মৌখিক নিন্দা প্রস্তাবও ভোটো প্রয়োগে বাতিল করা হয়।

উপরোক্ত অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে দিন দিন ইসলামী বিশ্বে তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে মধ্যযুগের অতীত সোনালী বৈজ্ঞানিক যুগে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে মুসলমানদের আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা। তৎপরিপ্রেক্ষিতে কাজাকিস্তানের মাননীয় প্রেসিডেন্ট এর প্রস্তাবানানুসারে ওআইসির শিক্ষা-বিজ্ঞান সংস্থার আয়োজনে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ২ দিন ব্যাপী কাজাকিস্তানের রাজধানী আস্তানায় প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয় শীর্ষ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিজ্ঞান সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী দিবসে মুসলমানদের আবারও বিজ্ঞানে ফিরে যাওয়ার আহবান জানানো হয়। উক্ত আহবানে সাড়া দিয়ে বেসরকারী পর্যায়ে পরবর্তী ২০১৮ সালের ১৪ই আগষ্ট আমরা মহান আল্লাহর অশেষ রহম, ফজল, করমে ইসলামিক রিসার্চ ফর রিভাইভিং অব সায়েন্স-টেকনোলজি (আই.আর.আর.এস.টি.সি) গড়ে তুলি এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ে সীমিতভাবে গবেষণা করি।

উক্ত গবেষণার আলোকে আমাদের প্রত্যয় এবং বিশ্বাস যে, আমরা শুধু বিজ্ঞান চর্চায় ফিরতে পারবো তাই নয়, অধিকন্তু পবিত্র কুরআন হাদীসে  বর্ণিত বিজ্ঞানের আলোকে বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞানে আমরা নেতৃত্বের অধিকারীও হতে পারব ইনশাআল্লাহ। কারণ, আধুনিক বিজ্ঞানের সৃষ্টিতত্ত্ব ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্বের প্রায় কাছাকাছি এসে পৌঁছে গেছে ইতিমধ্যেই। ফলে সার্বিক একীভূতকরণ তত্ত্বের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সত্যে পৌঁছার যে অগ্রযাত্রা সুদূর অতীতে শুরু করেছিল তার উপসংহার টানতে আমরা মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রতিষ্ঠা করেছি ইউরোপভিত্তিক CERN (সার্ণ) এর আদলে CIRNN (সির্ণ)। সির্ণ বর্তমানে বিজ্ঞানের অসমাপ্ত বিষয়গুলির পরিসমাপ্তিকরণে আগ্রাধিকার দেবে ইনশাআল্লাহ এবং প্রতিষ্ঠিত তাত্ত্বিক বিষয়গুলো ইসলামের মৌলিক মধ্যপন্থী আদর্শে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টিতে প্রয়াস-প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে ইনশাআল্লাহ।

ওয়ামা তাওফিকী ইল্লা বিল্লাহ।

শক্তির সির্ণ তত্ত্ব

হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনকে বিশ্ব তত্ত্বের স্ট্যান্ডার্ড ধরা হলে এবং বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট দৃশ্যমান সৃষ্টির পরিমাণ ৪ থেকে ৫% এবং বাকী অংশ শুন্য/মহাশুন্য ধরা হলে যেহেতু শুন্যে শক্তি বিরাজমান থাকা কোয়ান্টাম তত্ত্বে নতুন কথা নয়; এবং যেহেতু আইনস্টাইনের ভর শক্তি সমীকরণ মতে, জমে থাকা শক্তি জমাটবদ্ধ বস্তুর মতই, সেহেতু (স্ট্যান্ডার্ড মডেলমতে) শুন্যে বিদ্যমান হিগস ফিল্ডের শক্তি এবং তদ্বারা সৃষ্ট হিগস বোসন কণা, তদ্বারা সৃষ্ট ইলেকট্রন, কোয়ার্ক তৎপরবর্তীতে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, নিউট্রন, প্রোটন, অ্যাটম, অণু পরমাণু, গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, ব্ল্যাকহোল, কোয়াসার, উল্কাপিন্ড ইত্যাদি বস্তুর ভর এবং শক্তি সমার্থক বিধায় শক্তির নিত্যতার সূত্রানুযায়ী অদৃশ্যমান ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং দৃশ্যমান শক্তি যথাক্রমে এক্সরে, গামা, বেটা, আলফা রশ্মি এবং দৃশ্যমান বস্তু এবং বস্তুকণা সবই শক্তির রূপরূপান্তর মাত্র।

মহাকর্ষের সির্ণ তত্ত্ব 

আমাদের বদ্ধমূল ধারণা-বিশ্বাস (মিথ) যে, আমরা মর্ত্যবাসী বা মাটির পৃথিবীবাসী। এটা সত্য যে, আমাদের দেহ মাটির তৈরি। কিন্তু সেই দেহের সাথে জীবৎকালে মাটির সম্পর্ক কতটুকুন? সহজভাবে বলা যায়, দৈহিক সম্পর্ক খুবই কম। বড়জোর ০.৯৯ শতাংশ। কারণ দাঁড়ালে পায়ের চামড়া, শোয়া অবস্থায় পিঠের চামড়া, বসা অবস্থায় নিতম্বের চামড়া ভূত্বক স্পর্শিত মাত্র। এই স্পর্শ আঠার মতো নয়, আলতোভাবে লেগে থাকা মাত্র। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, এতো হালকাভাবে লেগে থাকা সত্ত্বেও বাতাসের প্রবল উর্ধ্বচাপ সহ্য করে আমরা বহাল তবিয়তেই পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকি, হেঁটে চলি, দৌড়ে চলি। তুলোর মতো উড়ে যাই না শুন্যে কিংবা ধুলি-কণার মতো ভেসে ভেসে মহাশুন্যের গভীর থেকে গভীরান্তরে হারিয়ে যাই না। 

প্রথমতঃ মহাকর্ষের সাথে মহাকাশের যত সম্পর্ক তত সম্পর্ক পৃথিবীর আকাশে কিংবা পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে রয়েছে কিনা? মহাকর্ষকে যদি বলা হয় অভিকর্ষ তাহলে তা বুঝাবে মধ্যাকর্ষণ শক্তিকে। তাহলে পৃথিবীর বুকে আমাদের লেগে থাকার ব্যাপারে মহাকর্ষের নয়; অভিকর্ষ বা মধ্যাকর্ষণের ভূমিকা থাকতে পারে। তাহলে মহাকর্ষ আমাদেকে টানে কিনা–পৃথিবীতে এমন প্রশ্ন উঠার অবকাশ নেই।

মধ্যাকর্ষণ যেভাবে টানে?

মধ্যাকর্ষণ আমাদের টানার ব্যাপারে দরকার আমাদের দেহের বস্তুগত উপাদানিক ভূমিকা। পৃথিবীর কক্ষ পথে রয়েছে শক্তিশালী চুম্বক ক্ষেত্র যা  পৃথিবীকে সূর্যের করোনা স্ট্রমের সুরক্ষা দেয়। তাছাড়া রয়েছে ৪ বলের অন্যতম বিদ্যু্ৎ চৌম্বকীয় বল- যা পৃথিবীতে মানুষসহ প্রাণীকূলের দেহে প্রভাবিত। সেমতে আমাদের দেহ ম্যাগনেটিক বলা যেতে পারে। আর পৃথিবীকে ধরা যেতে পারে মিনারেল আয়রণ বা লোহা সমৃদ্ধ। তাহলে বলা যেতে পারে, পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ আমাদেরকে টানে। ফলে আমরা বায়ুর উর্ধ্বচাপ সত্ত্বেও পৃথিবীর বুকে অআটকে থাকি। অথচ আমাদের সাথে ভূত্বকের দৈহিক সম্পর্ক খুবই কম। কারণ, দাঁড়ালে দুই পা, হাঁটলে এক পা সম্পর্ক যুক্ত, লাফিয়ে লাফিয়ে চললে কোনো পা-ই পৃথিবীর ভূত্বকের সাথে সম্পর্কে সম্পর্কিত মাত্র।

অবশ্য এতে প্রশ্ন থেকে যায় যে, মানব দেহে ম্যাগনেট ছাড়াও আয়রণ রয়েছে। এক গবেষণায় জানা যায় যে, মানব দেহে এতো পরিমাণ আয়রণ বা লৌহ কণিকা রয়েছে যে, এমন এক বড় মাপের পেরেক তৈরি করা সম্ভব যদ্বারা একজন মানুষকে সেই পেরেকে বিদ্ধ করে অনায়াসে ঝুলিয়ে রাখা যাবে। রক্তের শিরায় শিরায় রয়েছে এই আয়রন বা লোহা। দেহের একদিকে আয়রণ অন্যদিকে ম্যাগনেটের উপস্থিতিতে পৃথিবীর মাটিতেও ম্যাগনেট থাকায় আমাদেরকে আকর্ষণ করতে মধ্যাকর্ষণ কতটুকুন শক্তিমান? প্রশ্ন বটে। 

এমতাবস্থায় যদি মহাকর্ষকে অভিকর্ষ কিংবা মধ্যাকর্ষণ থেকে উর্ধ্বজাগতিক আলাদা বল (ফোর্স) ভাবি তাহলে আমাদেরকে পৃথিবীর ভূত্বকে আটকে থাকার ব্যাপারে মহাকর্ষের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেখার আশা করতে পারি। কিন্ত্ত এক্ষেত্রেও রয়েছে প্রতিবন্ধকতা। আর তা হচ্ছে, ১) মহাকর্ষের দূর্বল প্রকৃতির হওয়া এবং ২) টানার প্রবণতা। 

এমতাবস্হায় সির্ণ মনে করে, মহাকর্ষের দূর্বলতা এবং টানার উপরোক্ত দুই প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথিবীর ভূত্বকে লেগে থাকা কিংবা আটকে থাকার ব্যাপারে মহাকর্ষের হিতে বিপরীত ভূমিকা থাকারই কথা। তাহলে পৃথিবীর ভূত্বকে লেগে থাকা কিংবা আটকে থাকার রহস্য কী? 

বিজ্ঞানীদের দাবীঃ এমন প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর কখনও এই বিশ্বে পাওয়া যাওয়ার কথা নয়। বিজ্ঞানীরা এমন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন যাতে পদার্থ বিজ্নানের সূত্র ভেঙ্গে পড়ে। 

اِنَّ اللّٰهَ لَذُوۡ فَضۡلٍ عَلَی النَّاسِ وَ لٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَشۡکُرُوۡنَ ﴿۲۴۳

নিশ্চয় আল্লাহ তো মানুষের উপর অনুগ্রহশীল। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ শুকরিয়া আদায় করে না। ২:২৪৩ আল-বায়ান 

قُلۡ لِّمَنۡ مَّا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ قُلۡ لِّلّٰهِ ؕ کَتَبَ عَلٰی نَفۡسِهِ الرَّحۡمَۃَ ؕ ﴿۱۲﴾

বল, আসমানে আর যমীনে যা আছে তা কার? বল, আল্লাহরই। দয়া করা তিনি তাঁর জন্য কর্তব্য স্থির করে নিয়েছেন। ৬:১২ তাইসিরুল

مَا یَفۡتَحِ اللّٰهُ لِلنَّاسِ مِنۡ رَّحۡمَۃٍ فَلَا مُمۡسِکَ لَهَا ۚ وَ مَا یُمۡسِکۡ ۙ فَلَا مُرۡسِلَ لَهٗ مِنۡۢ بَعۡدِهٖ ؕ وَ هُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۲﴾

আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন তা আটকে রাখার কেউ নেই। আর তিনি যা আটকে রাখেন, তারপর তা ছাড়াবার কেউ নেই। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।  ৩৫:২ আল-বায়ান  

وَ اِنۡ نَّشَاۡ نُغۡرِقۡهُمۡ فَلَا صَرِیۡخَ لَهُمۡ وَ لَا هُمۡ یُنۡقَذُوۡنَ ﴿ۙ۴۳﴾

আর যদি আমি চাই তাদেরকে নিমজ্জিত করে দেই, তখন তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী থাকে না এবং তাদেরকে উদ্ধারও করা হয় না। ৩৬:৪৩ আল-বায়ান 

 رَبُّکُمُ الَّذِیۡ یُزۡجِیۡ لَکُمُ الۡفُلۡکَ فِی الۡبَحۡرِ لِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِهٖ ؕ اِنَّهٗ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا ﴿۶۶﴾

তোমাদের রব তিনি, যিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রে চালিত করেন নৌযান, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার। নিশ্চয় তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। ১৭:৬৬ আল-বায়ান 

وَ مِنۡ اٰیٰتِهٖ مَنَامُکُمۡ بِالَّیۡلِ وَ النَّهَارِ وَ ابۡتِغَآؤُکُمۡ مِّنۡ فَضۡلِهٖ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّسۡمَعُوۡنَ ﴿۲۳﴾

আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য যারা শোনে। ৩০:২৩ আল-বায়ান 

 فَلَوۡ لَا فَضۡلُ اللّٰهِ عَلَیۡکُمۡ وَ رَحۡمَتُهٗ لَکُنۡتُمۡ مِّنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ﴿۶۴﴾

আর যদি তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না হত, তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে। ২:৬৪ আল-বায়ান

ذٰلِکَ الۡفَضۡلُ مِنَ اللّٰهِ ؕ وَ کَفٰی بِاللّٰهِ عَلِیۡمًا ﴿۷۰﴾

এই অনুগ্রহ আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর সর্বজ্ঞ হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। ৪:৭০ আল-বায়ান

وَ اِذَا مَسَّ النَّاسَ ضُرٌّ دَعَوۡا رَبَّهُمۡ مُّنِیۡبِیۡنَ اِلَیۡهِ ثُمَّ اِذَاۤ اَذَاقَهُمۡ مِّنۡهُ رَحۡمَۃً

আর মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে তখন তারা তাদের রবের প্রতি বিনীতভাবে ফিরে এসে তাকে ডাকে। তারপর যখন তিনি তাদের স্বীয় রহমত আস্বাদন করান,  ৩০:৩৩ আল-বায়ান 

وَ لَئِنۡ سَاَلۡتَهُمۡ مَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ لَیَقُوۡلُنَّ اللّٰهُ ؕ قُلۡ اَفَرَءَیۡتُمۡ مَّا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ اِنۡ اَرَادَنِیَ اللّٰهُ بِضُرٍّ هَلۡ هُنَّ کٰشِفٰتُ ضُرِّهٖۤ اَوۡ اَرَادَنِیۡ بِرَحۡمَۃٍ هَلۡ هُنَّ مُمۡسِکٰتُ رَحۡمَتِهٖ ؕ قُلۡ حَسۡبِیَ اللّٰهُ ؕ عَلَیۡهِ یَتَوَکَّلُ الۡمُتَوَکِّلُوۡنَ ﴿۳۸﴾

আর তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে ‘আল্লাহ’। বল, ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ- আল্লাহ আমার কোন ক্ষতি চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাক তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমাকে রহমত করতে চাইলে তারা সেই রহমত প্রতিরোধ করতে পারবে’? বল, ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’। তাওয়াক্কুলকারীগণ তাঁর উপরই তাওয়াক্কুল করে। ৩৯:৩৮ আল-বায়ান 

  قُلۡ یٰعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اَسۡرَفُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُوۡا مِنۡ رَّحۡمَۃِ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَغۡفِرُ الذُّنُوۡبَ جَمِیۡعًا ؕ اِنَّهٗ هُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ ﴿۵۳﴾

বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। ৩৯:৫৩ আল-বায়ান

  اَلَّذِیۡنَ یَحۡمِلُوۡنَ الۡعَرۡشَ وَ مَنۡ حَوۡلَهٗ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّهِمۡ وَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِهٖ وَ یَسۡتَغۡفِرُوۡنَ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ۚ رَبَّنَا وَسِعۡتَ کُلَّ شَیۡءٍ رَّحۡمَۃً وَّ عِلۡمًا فَاغۡفِرۡ لِلَّذِیۡنَ تَابُوۡا وَ اتَّبَعُوۡا سَبِیۡلَکَ وَ قِهِمۡ عَذَابَ الۡجَحِیۡمِ ﴿۷﴾

যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলে যে, ‘হে আমাদের রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর জাহান্নামের আযাব থেকে আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন’। ৪০:৭ আল-বায়ান 

اَهُمۡ یَقۡسِمُوۡنَ رَحۡمَتَ رَبِّکَ ؕ نَحۡنُ قَسَمۡنَا بَیۡنَهُمۡ مَّعِیۡشَتَهُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَ رَفَعۡنَا بَعۡضَهُمۡ فَوۡقَ بَعۡضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَتَّخِذَ بَعۡضُهُمۡ بَعۡضًا سُخۡرِیًّا ؕ وَ رَحۡمَتُ رَبِّکَ خَیۡرٌ مِّمَّا یَجۡمَعُوۡنَ ﴿۳۲﴾

তারা কি তোমার রবের রহমত ভাগ-বণ্টন করে? আমিই দুনিয়ার জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করে দেই এবং তাদের একজনকে অপর জনের উপর মর্যাদায় উন্নীত করি যাতে একে অপরকে অধিনস্থ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আর তারা যা সঞ্চয় করে তোমার রবের রহমত তা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। ৪৩:৩২ আল-বায়ান 

اَللّٰهُ الَّذِیۡ سَخَّرَ لَکُمُ الۡبَحۡرَ لِتَجۡرِیَ الۡفُلۡکُ فِیۡهِ بِاَمۡرِهٖ وَ لِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِهٖ وَ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ﴿ۚ۱۲﴾

আল্লাহ, যিনি সমুদ্রকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন যাতে তাঁরই আদেশক্রমে তাতে নৌযানসমূহ চলাচল করতে পারে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করে বেড়াতে পার এবং যাতে তোমরা শোকর আদায় করতে পার। ৪৫:১২ আল-বায়ান  وَ اِذَاۤ اَذَقۡنَا النَّاسَ رَحۡمَۃً فَرِحُوۡا بِهَا ؕ

আর আমি যখন মানুষকে রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই তখন তারা তাতে আনন্দিত হয়। ৩০:৩৬ আল-বায়ান 

هٰذَا بَصَآئِرُ لِلنَّاسِ وَ هُدًی وَّ رَحۡمَۃٌ لِّقَوۡمٍ یُّوۡقِنُوۡنَ ﴿۲۰﴾

এ কুরআন মানবজাতির জন্য আলোকবর্তিকা এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত। আল-বায়ান 

 وَ لٰکِنَّ اللّٰهَ ذُوۡ فَضۡلٍ عَلَی الۡعٰلَمِیۡنَ ﴿۲۵۱

কিন্তু আল্লাহ বিশ্ববাসীর উপর অনুগ্রহশীল। ২:২৫১ আল-বায়ান 

ؕ اِنَّ رَحۡمَتَ اللّٰهِ قَرِیۡبٌ مِّنَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ

ۚনিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। ৭:৫৬ আল-বায়ান 

  یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ قَدۡ جَآءَتۡکُمۡ مَّوۡعِظَۃٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَ شِفَآءٌ لِّمَا فِی الصُّدُوۡرِ ۬ۙ وَ هُدًی وَّ رَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۵۷﴾

হে মানুষ, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরসমূহে যা থাকে তার শিফা, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত। ১০:৫৭ আল-বায়ান 

 وَ رَحۡمَتِیۡ وَسِعَتۡ کُلَّ شَیۡءٍ

আর আমার রহমত সব বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করেছে। ৭:১৫৬ আল-বায়ান

اَنۡتَ اَرۡحَمُ الرّٰحِمِیۡنَ ﴿۱۵۱

আর আপনিই রহমকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। ৭:১৫১ আল-বায়ান

وَ مِنۡ اٰیٰتِهٖۤ اَنۡ یُّرۡسِلَ الرِّیَاحَ مُبَشِّرٰتٍ وَّ لِیُذِیۡقَکُمۡ مِّنۡ رَّحۡمَتِهٖ وَ لِتَجۡرِیَ الۡفُلۡکُ بِاَمۡرِهٖ وَ لِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِهٖ وَ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ﴿۴۶

আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি বাতাস প্রেরণ করেন [বৃষ্টির] সুসংবাদ বহনকারী হিসেবে এবং যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমত আস্বাদন করাতে পারেন এবং যাতে তাঁর নির্দেশে নৌযানগুলো চলাচল করে, আর যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ থেকে কিছু সন্ধান করতে পার। আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও। ৩০:৪৬ আল-বায়ান 

فَانۡظُرۡ اِلٰۤی اٰثٰرِ رَحۡمَتِ اللّٰهِ کَیۡفَ یُحۡیِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَا ؕ اِنَّ ذٰلِکَ لَمُحۡیِ الۡمَوۡتٰی ۚ وَ هُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۵۰﴾

অতএব তুমি আল্লাহর রহমতের চি‎হ্নসমূহের প্রতি দৃষ্টি দাও। কিভাবে তিনি যমীনের মৃত্যুর পর তা জীবিত করেন। নিশ্চয় এভাবেই তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। ৩০:৫০ আল-বায়ান 

وَ هَبۡ لَنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ رَحۡمَۃً ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡوَهَّابُ ﴿۸

এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা। ৩:৮ আল-বায়ান 

فَاَمَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَیُدۡخِلُهُمۡ رَبُّهُمۡ فِیۡ رَحۡمَتِهٖ ؕ ذٰلِکَ هُوَ الۡفَوۡزُ الۡمُبِیۡنُ ﴿۳۰﴾

অতঃপর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের রব পরিণামে তাদেরকে স্বীয় রহমতে প্রবেশ করাবেন। এটিই সুস্পষ্ট সাফল্য। ৪৫:৩০ আল-বায়ান 

           ৪৯:৮ فَضۡلًا مِّنَ اللّٰهِ وَ نِعۡمَۃً ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ﴿۸﴾

আল্লাহর পক্ষ থেকে করুণা ও নিআমত স্বরূপ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। ৪৯:৮ আল-বায়ান 

ذَا قُضِیَتِ الصَّلٰوۃُ فَانۡتَشِرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَ ابۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِ اللّٰهِ وَ اذۡکُرُوا اللّٰهَ کَثِیۡرًا لَّعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ﴿۱۰﴾

অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার। ৬২:১০ আল-বায়ান 

 وَ اَنَّ الۡفَضۡلَ بِیَدِ اللّٰهِ یُؤۡتِیۡهِ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ ذُو الۡفَضۡلِ الۡعَظِیۡمِ ﴿۲۹

আর নিশ্চয় অনুগ্রহ আল্লাহর হাতেই, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দেন। আর আল্লাহ মহাঅনুগ্রহের অধিকারী। ৫৭:২৯ আল-বায়ান 

وۡۤا اِلٰی مَغۡفِرَۃٍ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَ جَنَّۃٍ عَرۡضُهَا کَعَرۡضِ السَّمَآءِ وَ الۡاَرۡضِ ۙ اُعِدَّتۡ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰهِ وَ رُسُلِهٖ ؕ ذٰلِکَ فَضۡلُ اللّٰهِ یُؤۡتِیۡهِ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ ذُو الۡفَضۡلِ الۡعَظِیۡمِ ﴿۲۱﴾

তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হও, যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার মত। তা প্রস্তত করা হয়েছে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনে তাদের জন্য। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। ৫৭:২১ আল-বায়ান 

https://www.hadithbd.com/quran/subjectwise/detail/?sub=34




Comments

Popular posts from this blog

সৃষ্টি তত্ত্ব

স্ট্রিং (বাংলা) তত্ত্ব DRAFT

বিশ্ব জগৎ এবং তার বুদ্ধিদীপ্ত ক্রম বিকাশের ইতিহাস