ড্রাফট ০৩

 ড্রাফট ০৩

মহাবিশ্বের গঠন প্রণালী

মানুষ প্রাগৈতিকহাসিক কাল থেকে নানা প্রশ্ন করে আসছে। তার উত্তরও খোঁজা চেষ্টা করেছে হাজারো বছর ধরে। তার কতক মিলেছে, কতক এখনো অজানা। তেমনই একটি প্রশ্ন: আমাদের মহাবিশ্ব কী দিয়ে তৈরি?

এর উত্তরে যদি বলা হয় চাঁদ, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, কোয়াসার ইত্যাদি দিয়ে আমাদের এই মহাবিশ্ব গঠিত। ইত্যাদি শব্দ দিয়ে মহাবিশ্বের দৃশ্যমান, অদৃশ্যমান সব কিছুর একক হিসাবে বুঝাবে। তবে এভাবে বলা হলে প্রশ্নটির সত্যিকার জবাব পাওয়া যাবে না।

আসলে আমাদের এমন কোন উত্তর দরকার যা চারপাশে থাকা প্রায় অসীম বৈচিত্রময় বস্তুকে সহজ-সরলভাবে প্রকাশ করতে পারবে। এই উদ্দেশ্যেই প্রাচীনকালে গ্রিক দার্শনিকরা ভেবেছিল, মহাবিশ্বের মৌলিক উপাদান চারটি। সেগুলো হল: আগুন, পানি, বাতাস আর মাটি। সেইকালে ভারতীয় দার্শনিকরাও প্রায় একই ধরনের চিন্তা করেছিলেন। তাদের মতে, জগত পাঁচটি ভুতে বা উপাদানে গঠিত: ক্ষিতি (মাটি), অপ (পানি), তেজ (শক্তি), মরুৎ (বাতাস) এবং ব্যোম (আকাশ)। একে বলে পঞ্চভুত। চীনসহ পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস ছিল পৃথিবী পাঁচ উপাদানে গঠিত। সেগুলো হল- পানি, আগুন, মাটি, কাঠ ও ধাতু।

তবে জ্ঞান-বিজ্ঞান যতই এগিয়েছে ততই দেখা গিয়েছে, মহাবিশ্বের মূল উপাদান আসলে এগুলো নয়। বস্তুকণার ক্ষুদ্রতম কোন একক দিয়ে আমাদের চারপাশের বস্তুজগত গঠিত।

প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকরা একে বলেছিলেন অ্যাটম বা অবিভাজ্য। অর্থাৎ কোন বস্তুকে ভাঙতে ভাঙতে যখন আর ভাঙা যায় না তাকেই বলেই অ্যাটম। প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিকরা বস্তুর ক্ষুদ্রতম এই এককের নাম দিয়েছিলেন পরমাণু। অবশ্য বস্তুকণা যে এই পরমাণু বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ হয়েছিল ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের জনক আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি গবেষণাপত্রে।

আমাদের দৃশ্যমান জগতের ক্ষুদ্রতম একক এসব পরমাণু।

তবে বিংশ শতাব্দীতে আরও বিশদ গবেষণায় প্রমাণিত হল, পরমাণুই শেষ কথা নয়। পরমাণুকে ভাঙলে পাওয়া যায় প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন। আবার প্রোটন ও নিউট্রনকে ভাঙলে পাওয়া যায় কোয়ার্ক নামের আরও ক্ষুদ্রতম কণা। এই কোয়ার্ককেই এখন বলা হয় পদার্থের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম মৌলিক কণা।

দুটি আপ কোয়ার্ক আর একটি ডাউন কোয়ার্ক মিলে তৈরি হয় প্রোটন। আর দুটি ডাউন কোয়ার্ক আর একটি আপ কোয়ার্ক মিলে তৈরি হয় একটি নিউট্রন। প্রোটন আর নিউট্রন মিলে তৈরি করে একটু পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রীয় অংশ। আর তাদের চারপাশে ঘূর্ণমান বা মেঘের মত ঘনবদ্ধ অবস্থায় থাকে ক্ষুদ্র কণা ইলেকট্রন। এভাবেই প্রোটন, নিউট্রন আর ইলেকট্রন মিলে তৈরি হয় পরমাণু। এর সাথে জড়িত থাকে কিছু বলবাহী কণা। কয়েকটি পরমাণু দিয়ে একটি অণু। এভাবেই গঠিত হয় বস্তু, অর্থাৎ আমাদের দৃশ্যমান বস্তুজগত।

তাহলে দেখা যাচ্ছে শুধু আপ কোয়ার্ক, ডাউন কোয়ার্ক আর ইলেকট্রন দিয়েই গোটা মহাবিশ্বের যেকোন পদার্থ তৈরি করা সম্ভব। অর্থাৎ মৌলের পর্যায়সারণিতে থাকা যেকোন পরমাণু তৈরি করা সম্ভব।

হাজার হাজার বছর ধরে লাখো জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের শ্রম, মেধার মাধ্যমে আমরা উপরোক্ত এই মহাজাগতিক জ্ঞান অর্জন করেছি। তবে, আমাদের এই জ্ঞান এখনো অসম্পূর্ণ। কারণ আমাদের চেনা অণু-পরমাণু গঠনের জন্য যেসব কণা প্রয়োজন, সেগুলো এখনও অনাবিস্কৃত রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য গত বিংশ শতাব্দি থেকে এ পর্যন্ত কণা পদার্থবিদরা ইলেকট্রন, আর আপ ও ডাউন কোয়ার্কসহ মোট ১৭টি কণা আবিষ্কার করেছেন। এর মধ্যে কোয়ার্ক কণা হল ছয়টি: আপ কোয়ার্ক, ডাউন কোয়ার্ক, স্ট্রেঞ্জ কোয়ার্ক, চার্ম কোয়ার্ক, বটম কোয়ার্ক, টম কোয়ার্ক। আর বলবাহী কণাগুলো হল: ফোটন, ডব্লিউ বোসন, জেড বোসন, গ্লুয়ন, হিগস-বোসন। এছাড়া আছে ইলেকট্রন, মিওন, টাও, ইলেকট্রন নিউট্রিনো, মিওন নিউট্রিনো এবং টাও নিউট্রিনো। এই ছয়টি কণাকে বলা হয় লেপ্টন। এই সবগুলো কণা নিয়ে গঠিত হয়েছে কণাপদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেল। 

মহাবিশ্বের বুদ্ধিমাত্রিকতার স্বরূপ

বলবাহী কণাগুলো অন্য কণাগুলোর মধ্যে বলের আদান-প্রদান করে। যেমন: গ্লুয়ন কণাটি দুটি কোয়ার্কের মধ্যে বলের বিনিময়ের মাধ্যমে দুটি কোয়ার্কদের পরস্পরের সাথে শক্তভাবে আটকে রাখে। সেই কারণেই এর নাম হয়েছে গ্লুয়ন। গ্লু বা আঠা যেমন দুটি বস্তুকে আটকে রাখে, গ্লুয়ন কণাও দুটি কোয়ার্ককে তাই করে।

মহাবিশ্বের সব নক্ষত্র, গ্রহ-উপগ্রহ, ধুমকেতু শুধু তিনটি মাত্র মৌলিক কণা দিয়ে গঠিত। তবে মহাবিশ্বের খুবই ক্ষুদ্রতম একটি অংশ শুধু তিনটি মাত্র মৌলিক কণা দিয়ে গঠিত। কারণ এই অংশটুকুকেই আমরা জানি-বুঝি। আর এই স্বাভাবিক অংশের পরিমাণ মাত্র ৫ শতাংশ।

মহাবিশ্বের বাকী অংশ বা সিংহভাগ (৯৫%) তাহলে কী দিয়ে তৈরি? আমরা এখনো তা জানি না। এই অংশকে বলা হয় ডার্ক ম্যাটার বা গুপ্তবস্তু এবং ডার্ক এনার্জি বা গুপ্তশক্তি। আমরা যদি মহাবিশ্বে আমাদের জানা এবং অজানা অংশকে পাই চার্ট দিয়ে প্রকাশ করি, তাহলে সেটি দেখতে নিচেরছবিটির মত হবে।

মহাবিশ্বের এই পাই চার্ট দেখতে বেশ রহস্যময়। এর মাত্র ৪.৬ শতাংশ বস্তু সম্পর্কে আমরা জানি, যার মধ্যে রয়েছে আমাদের পৃথিবীসহ গ্রহ-উপগ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ এবং তাদের মধ্যে থাকা সবকিছু। এই চার্টের ২৪ শতাংশ অংশকে বলা ডার্ক ম্যাটার বা গুপ্তবস্তু। আর বাকী ৭১.৪ শতাংশ এমন কোন কিছু, যা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরাও তেমন বোঝেন না, কিছুই জানেন না। পদার্থবিদরা এই অংশের নাম দিয়েছেন ডার্ক এনার্জি বা গুপ্তশক্তি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গুপ্তশক্তির কারণেই মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। জানার মধ্যে আমরা এটুকুই জানি। ডার্ক ম্যাটার আর ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে আমাদের আর কোন কিছু জানা নেই।

দেখা যাচ্ছে, মহাবিশ্বের বড় একটি অংশই আমাদের কাছে এখনো অজানা আর অধরাই রয়ে গেছে। যেনো হাজার হাজার বছর ধরে আমরা কোন হাতি নিয়ে গবেষণা করে, হঠাৎ করে জানতে পেরেছি, আমরা শুধু তার লেজ নিয়েই এতোদিন পড়ে ছিলাম। হাতির পুরো দেহ আবিষ্কার করা এখনো বাকীই রয়ে গেছে।

হাজার হাজার বছরের গবেষণার ফসল হচ্ছে বড়জোর ৫ শতাংশ জ্ঞান অর্জন। এটা একদিকে চরম হতাশার হলেও নিরাশা ব্যান্জক নয়। হাজার বছর যদি সাধনা করা না হতো তাহলে হয়তো এই ৫শতাংশও জানা হতো না। তাই এই ৫ শতাংশও কম নয়। তাই নিরাশার কারণ নেই।

মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের এই ক্ষুদ্র পরিধি কিংবা মাত্রার ব্যাপারটি বুঝতে পেরে অনেকেই হয়ত হতাশ হতে পারেন। কিন্তু এতে হতাশার কিছু নেই, বরং অনেক বড় একটা সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে যদি আমরা অনুসন্ধান আর শেখার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি। 

ইতিহাসে দেখা যায়, মধ্যযুগে দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা জীবনের ঝুকি নিয়ে নতুন পৃথিবীর আবিষ্কারের নেশায় বিপদসংকুল পথে বেরিয়ে পড়তেন। যেমন হিউয়েন সাং, ইবনে বতুতা, ভাস্কো দ্য গামা, কলম্বাসসহ আরও অনেকে। একসময় তারা উত্তর-দক্ষিণ অআমেরিকার মত বড় বড় মহাদেশ পর্যন্ত আবিস্কার করে বসেন। নতুন স্থলভূমি আবিষ্কার করেছিলেন। বিজ্ঞানের এইসব অজানা ব্যাপারগুলোকেও এরকম অভিযান আর আবিষ্কারের সাথে তুলনা করা যায়। এখানে এখন অনেক কিছু আবিষ্কারের সুযোগ আছে, যার মাধ্যমে আমরা মহাবিশ্বের অনেক রহস্য আর অজানা খুঁজে বের করতে পারি। অবশ্য এই আবিষ্কার হয়ত আমাদের এতোদিনের দৃষ্টিভঙ্গি খোলনলচে পাল্টেও দিতে পারে।

ইতিহাসে এর আগেও এমন ঘটনা দেখা গেছে। বিজ্ঞান জগতে এর আগে এমন বৈপ্লবিক আবিষ্কারের ঘটনা ঘটছে, যার কারণে আমাদের আগের অনেক ধারণা বিসর্জন দিতে হয়েছে। যেমন: একসময় সমতল পৃথিবীর ধারণায় বিশ্বাস করতো মানুষ। কিন্তু পরে তাত্ত্বিক ও তথ্য-প্রমাণের কারণে গোলাকার পৃথিবীর ধারণা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল মানুষ। পরম সময় বা স্থানের ধারণাও ত্যাগ করতে হয়েছে আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের কারণে। ত্যাগ করতে হয়েছে ইথার নামের কাল্পনিক এক ধারণাও। আবার একসময় আলো ও শক্তিকে নিরবিচ্ছিন্ন তরঙ্গ বলে ভাবা হতো। কিন্তু কোয়ান্টাম তত্ত্বের কারণে আমরা এখন শক্তিকে বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা কণা হিসেবে ভাবতে বাধ্য হয়েছি। তাই ভবিষ্যতে হয়ত আরও অন্য কোন বৈপ্লবিক আবিষ্কার আমাদের এখনকার

প্রচলিত ধারণাও পাল্টে দিতে পারে। কে জানে, তখন হয়ত এখনকার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণাও হটিয়ে দিতে পারে। ভবিষ্যতের মানুষ হয়ত তখন অবাক হয়ে আমাদের বোকামির কথা ভাববে, যেমন করে আমরা প্রাগৈতিহাসিককালের গুহাবাসী মানুষদের ধারণা সম্পর্কে চিন্তা করি। মহাবিশ্বকে সঠিকভাবে বোঝার চেষ্টায় মানবজাতির অভিযাত্রার তাই কোন শেষ নেই। তারপরও আমাদের জীবদ্দশাতেই এসব সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশা করতে পারি আমরা।

সূত্র: উই হ্যাভ নো আইডিয়া/জর্জ চ্যাম ও ড্যানিয়েল হোয়াইটসন; ম্যাজিক ফার্নেস/ মার্কাস চোন এবং উইকিপিডিয়া, বিজ্ঞানচিন্তা।

শুরু করা যাক আল্লাহ তায়ালার নামে যিনি যাকে ইচ্ছা, যতটুকু ইচ্ছা ততটুকু জ্ঞান দ্বারা আমাদেরকে ধন্য করেছেন শুধু তাই নয়; অধিকন্তু লদ্ধ জ্ঞানের মাত্রা আরও বাড়ানোর জন্য পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে আমাদেরকে নিম্নোক্ত জ্ঞান বর্ধক দোয়াও শিখিয়েছেন এই বলেঃ রব্বি জিদনী ইলমাঃ আয় আল্লাহ তায়ালা আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন। 

মহাকর্ষ, ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার, স্ট্রিং থিওরি ইতাাদির মাধ্যমে মহাবিশ্বকে সত্যিকারভাবে জানার মাধ্যমে সম্ভবপর হতে পারে আইনস্টাইনসহ খ্যাতনামা বিজ্ঞানীদের লালিত স্বপ্ন সার্বিক একীভূতকরণ তত্ত্বের মাধ্যমে নিউটনীয় চিরায়ত (ক্ল্যাসিকেল) বল বিজ্ঞান, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কীয় কোয়ান্টাম বল বিজ্ঞান, হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তাবাদ আইনস্টাইনের বিশেষ এবংসাধারণ আপেক্ষিতা তত্বকে অভিন্ন সুতা-সূত্রে বন্ধনের মাধ্যমে।

মহাবিশ্বের সব জানার স্বীকৃতি/ঘোষণা যখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল উনবিংশ শতাব্দীতে, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ১৯০১ সালে কোয়ান্টাম মেকানিকসের ধারণা উদ্ভবের ফলে জানার বৈজ্ঞানিক চাকাটা যেন উল্টো পানে চলতে শুরু করে। এর ৪ বছরের মাথায় ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এর ১০ বছরের মাথায় সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব যেন আরও জোরে যেন উল্টো পানে চাকা চলতে শুরু করে। “আপেক্ষিক” শব্দটা যেন এ যাবৎকালের সব থিওরিকে আপেক্ষিক করে তোলায় খোদ আইনস্টাইন এই শব্দ নিয়ে বিপাকে পড়েন। যদিও শব্দটি নিজের নয়, সহগামীদের। নিজের প্রস্তাবিত শব্দটি ছিল ইনভেরিয়েন্ট অর্থাৎ অপরিবর্তনীয়, শাশ্বত। বলা হয়ঃ আমরা ডেমোক্রিটাসের যুগ পেয়েছিলাম হাজার হাজার বছর, তারপর অ্যারিস্টটলের হাজার বছর, তার পর নিউটনের যা চলেছিল ৩০০ বছর। এখন আইনস্টাইন যুগ। জানি না তা কত যুগ ধরে চলে।

কিন্ত্ত অতিপারমাণবিক কণা নিউট্রিনোর আলোর গতির চাইতে  ৬০ ন্যানো সেকেন্ড এগিয়ে যাওয়ায় আইনস্টাইনের বিশেষ থিওরি যায় যায় অবস্থায় ছিল। স্টিফেন হকিংদের হস্তক্ষেপের পর সার্ণ বাধ্য হয়েছে ১৬০০১ তম পরীক্ষায় আইনস্টাইনের বিশেষ তত্ত্বকে জিতিয়ে দেয়ার। সাধারণ তত্ত্বের প্রতি হুমকি আসে চলতি শতাব্দীর দ্বিতীয় শতাব্দীতে যখন সরেজমিনে ব্ল্যাকহোলের চিত্র ধারণের মত চ্যালেন্জ নিতে গিয়ে। তবে ২০১৯ সালে ব্ল্যাকহোলের বাস্তব চিত্র ধারণ করার মাধ্যমে এ যাত্রায় রক্ষা পায় সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব।

যখন আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সাথে কোয়ান্টাম মেকানিকসের বিদ্যমান দ্বন্দ্ব নিরসন করে সার্বিক একীভূত তত্ত্বের দিকে অআইন্টাইসের মত বিজ্ঞানীরা প্রবলভাবে ঝুঁকেছিল এবং ১৯৭০ এর দিকে আবদুস সালামসহ ৩ বিজ্ঞানী ৪ বলের ৩ বলকে অন্ততঃ তাত্ত্বিকভাবে একীভূত করণে সক্ষম হয়ে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন কিন্তু বাধ সাধে মহাকর্ষ বল। তাকে কিছুতেই এক করাতো দূরের কথা তার প্রতি বল গ্র্যাভিটন যেন আমাবশ্যার চাঁদ, সোনার হরিণ হয়ে দেখা দেয় বিজ্ঞান মহলে। মহাকর্ষ ও গ্র্যাভিটনকে যখন উপসংহারে টেনে আনা যাচ্ছিল না কিছুতেই তখনই মড়ার উপর খাড়ার ঘা হয়ে বিজ্ঞান জগতে দেখা দেয় ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটারের ন্যায় বিষয়গুলি যারা মহাবিশ্বের মোট শক্তি এবং পদার্থের অন্ততঃ ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ দখল করে আছে। বাকী মহাবিশ্বের মাত্র ৪/৫শতাংশ তাও আবার সব খালি চোখে নয়, অত্যাধুনিক কণা ডিটেক্টর যন্ত্রে, কিংবা ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপ, হাবল-জেমস , ভয়েজার ১ ও ২ প্রভৃতির প্রক্রিয়ায় জানা যাচ্ছে। ফলে বিজ্ঞানীদেরকে কিংকর্তব্যবিমূড়, হতবিহ্বল হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। তবে সির্ণ মনে করে আইজ্যাক নিউটনের কথাই সত্য। নিউটন বলে গেছেন, সত্য কঠিন পথে নয়, সহজ পথে পাওয়া যায়। তাই আমাদেরকে ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে জানতে কামান দাগানোর পরিবর্তে সহজ পথে খুঁজতে হবে। খুজতে হবে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে, প্রকৃতি শব্দের মধ্য দিয়ে।

ওয়ামা তাওফিকী ইল্লা বিল্লাহ। 

هُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ لَکُمۡ مَّا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا ٭ ثُمَّ اسۡتَوٰۤی اِلَی السَّمَآءِ فَسَوّٰىهُنَّ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ ؕ وَ هُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ﴿۲۹

তিনিই যমীনে যা আছে সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তারপর আসমানের প্রতি খেয়াল করলেন এবং তাকে সাত আসমানে সুবিন্যস্ত করলেন। আর সব কিছু সম্পর্কে তিনি সম্যক জ্ঞাত। (আল-বায়ান)।

উক্ত আয়াত থেকে এ কথাও জানা যায় যে, আসমানের পূর্বে যমীন সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সূরা নাযিআত (৩০ আয়াতে) আসমানের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, {وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهاَ} যমীনকে এর পর বিস্তৃত করেছেন। এর ব্যাখ্যা এই করা হয়েছে যে, প্রথমে যমীনই সৃষ্টি হয়েছে, তবে পরিষ্কার ও সমতল করে বিছানো হল সৃষ্টি থেকে ভিন্ন ব্যাপার, যেটা আসমান সৃষ্টির পর সম্পাদিত হয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর) 

সহীহ সনদে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, “আল্লাহ্ তা'আলা যমীনকে আসমানের আগেই সৃষ্টি করেছিলেন এবং তার মধ্যে খাবার জাতীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু সেটাকে আসমান সৃষ্টির পূর্বে প্রসারিত ও সামঞ্জস্যবিধান করেন নি। তারপর তিনি আকাশের প্রতি মনোযোগী হয়ে সেটাকে সাত আসমানে বিন্যস্ত করেন। তারপর তিনি যমীনকে সুন্দরভাবে প্রসারিত ও বিস্তৃত করেছেন। এটাই এ আয়াত এবং সূরা আন-নাযি’আতের ৩০ নং আয়াতের মধ্যে বাহ্যতঃ উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর। [আত-তাফসীরুস সহীহ] মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা আসমান সৃষ্টি করার আগেই যমীন সৃষ্টি করেন। যমীন সৃষ্টির পর তা থেকে এক ধোয়া বা বাষ্প উপরের দিকে উঠতে থাকে। আর সেটাই আল্লাহর বাণীঃ “তারপর তিনি আসমান সৃষ্টির দিকে মনোনিবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, সেটা ছিল ধুম্রাকার” [সূরা ফুসসিলাত: ১১] [ইবনে কাসীর]

দ্বিতীয় অধ্যায় 

[1] أَيْ: خَلَقَ مِنَ الأَرْضِ مِثْلَهُنَّ সাত আসমানের ন্যায় সাত যমীনও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন, সাতটি প্রদেশ। তবে এ কথা ঠিক নয়। বরং যেভাবে উপর্যুপরি সাতটি আসমান রয়েছে, অনুরূপ সাতটি যমীনও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও ব্যবধানও আছে এবং প্রত্যেক যমীনে আল্লাহর সৃষ্টি আবাদ রয়েছে। (ক্বুরত্ববী) বহু হাদীস দ্বারা এ কথার সমর্থনও হয়। যেমন, নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি যুলুম করে বিঘত পরিমাণ যমীন আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনকে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’’ (মুসলিম, বাণিজ্য অধ্যায়, যুলুম করা হারাম পরিচ্ছেদ) সহীহ বুখারীর শব্দাবলী হল, (خُسِفَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى سَبْعِ أَرَضِينَ) ‘‘কিয়ামতের দিন তাকে সপ্ত যমীনের নীচ পর্যন্ত ধসিয়ে দেওয়া হবে। (বুখারী, মাযালিম অধ্যায়, যমীন আত্মসাৎ করার পাপ পরিচ্ছেদ) https://www.hadithbd.com/quran/subjectwise/detail/?pageNum_tafsirquran=1&totalRows_tafsirquran=39&sub=8

শক্তি (এনার্জি)

اَللّٰهُ الَّذِیۡ خَلَقَ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ وَّ مِنَ الۡاَرۡضِ مِثۡلَهُنَّ ؕ یَتَنَزَّلُ الۡاَمۡرُ بَیۡنَهُنَّ لِتَعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰهَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ۬ۙ وَّ اَنَّ اللّٰهَ قَدۡ اَحَاطَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عِلۡمًا ﴿۱۲﴾

তিনি আল্লাহ, যিনি সাত আসমান এবং অনুরূপ যমীন সৃষ্টি করেছেন; এগুলির মাঝে তাঁর নির্দেশ অবতীর্ণ হয় যেন তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহর জ্ঞানতো সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে।৬৫:১২  আল-বায়ান 

وَ اللّٰهُ خَلَقَ کُلَّ دَآبَّۃٍ مِّنۡ مَّآءٍ ۚ فَمِنۡهُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰی بَطۡنِهٖ ۚ وَ مِنۡهُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰی رِجۡلَیۡنِ ۚ وَ مِنۡهُمۡ مَّنۡ یَّمۡشِیۡ عَلٰۤی اَرۡبَعٍ ؕ یَخۡلُقُ اللّٰهُ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۴۵

আর আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের কোনটি পেটে ভর দিয়ে চলে, কোনটি চলে দু’পায়ের উপর, আবার কোনটি চার পায়ের উপর চলে। আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। ২৪:৪৫ আল-বায়ান 

 وَ هُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ مِنَ الۡمَآءِ بَشَرًا فَجَعَلَهٗ نَسَبًا وَّ صِهۡرًا ؕ وَ کَانَ رَبُّکَ قَدِیۡرًا ﴿۵۴

আর তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তাকে বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্কযুক্ত করেছেন। আর তোমার রব হল প্রভূত ক্ষমতাবান। ২৫:৫৪ আল-বায়ান

 قُلۡ سِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ بَدَاَ الۡخَلۡقَ ثُمَّ اللّٰهُ یُنۡشِیٴُ النَّشۡاَۃَ الۡاٰخِرَۃَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿ۚ۲۰

বল, ‘তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ’ কীভাবে তিনি সৃষ্টির সূচনা করেছিলেন, তারপর আল্লাহই আরেকবার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। ২৯:২০ আল-বায়ান 

فَانۡظُرۡ اِلٰۤی اٰثٰرِ رَحۡمَتِ اللّٰهِ کَیۡفَ یُحۡیِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَا ؕ اِنَّ ذٰلِکَ لَمُحۡیِ الۡمَوۡتٰی ۚ وَ هُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ

অতএব তুমি আল্লাহর রহমতের চি‎হ্নসমূহের প্রতি দৃষ্টি দাও। কিভাবে তিনি যমীনের মৃত্যুর পর তা জীবিত করেন। নিশ্চয় এভাবেই তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।৩০:৫০ আল-বায়ান 

  اَللّٰهُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ ضُؔعۡفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنۡۢ بَعۡدِ ضُؔعۡفٍ قُوَّۃً ثُمَّ جَعَلَ مِنۡۢ بَعۡدِ قُوَّۃٍ ضُؔعۡفًا وَّ شَیۡبَۃً ؕ یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ۚ وَ هُوَ الۡعَلِیۡمُ الۡقَدِیۡرُ ﴿۵۴﴾

আল্লাহ, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন দুর্বল বস্তু থেকে এবং দুর্বলতার পর তিনি শক্তি দান করেন। আর শক্তির পর তিনি আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।৩০:৫৪ আল-বায়ান 

اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ جَاعِلِ الۡمَلٰٓئِکَۃِ رُسُلًا اُولِیۡۤ اَجۡنِحَۃٍ مَّثۡنٰی وَ ثُلٰثَ وَ رُبٰعَ ؕ یَزِیۡدُ فِی الۡخَلۡقِ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۱﴾

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, ফেরেশতাদেরকে বাণীবাহকরূপে নিযুক্তকারী, যারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টির মধ্যে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। ৩৫:১  আল-বায়ান 

اَوَ لَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ وَ کَانُوۡۤا اَشَدَّ مِنۡهُمۡ قُوَّۃً ؕ وَ مَا کَانَ اللّٰهُ لِیُعۡجِزَهٗ مِنۡ شَیۡءٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ اِنَّهٗ کَانَ عَلِیۡمًا قَدِیۡرًا ﴿۴۴﴾

আর তারা কি যমীনে ভ্রমণ করে না? তাহলে তারা দেখত, কেমন ছিল তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম। অথচ তারা তো শক্তিতে ছিল এদের চেয়েও প্রবল। আল্লাহ তো এমন নন যে, আসমানসমূহ ও যমীনের কোন কিছু তাকে অক্ষম করে দেবে। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। ৩৫:৪৪  আল-বায়ান 

آءَ ۚ فَاللّٰهُ هُوَ الۡوَلِیُّ وَ هُوَ یُحۡیِ الۡمَوۡتٰی ۫ وَ هُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۹﴾

তারা কি তাঁকে বাদ দিয়ে বহু অভিভাবক গ্রহণ করেছে? কিন্তু আল্লাহ, তিনিই হলেন প্রকৃত অভিভাবক; তিনিই মৃতকে জীবিত করেন আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।৪২:৯ আল-বায়ান

  وَ مِنۡ اٰیٰتِهٖ خَلۡقُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ مَا بَثَّ فِیۡهِمَا مِنۡ دَآبَّۃٍ ؕ وَ هُوَ عَلٰی جَمۡعِهِمۡ اِذَا یَشَآءُ قَدِیۡرٌ ﴿۲۹﴾

আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং এতদোভয়ের মধ্যে তিনি যে সব জীব-জন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলো। তিনি যখন ইচ্ছা তখনই এগুলোকে একত্র করতে সক্ষম। ৪২:২৯ আল-বায়ান

 لِلّٰهِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ؕیَهَبُ لِمَنۡ یَّشَآءُ اِنَاثًا وَّ یَهَبُ لِمَنۡ یَّشَآءُ الذُّکُوۡرَ ﴿ۙ۴۹﴾

আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।৪২:৪৯  আল-বায়ান 

اَوۡ یُزَوِّجُهُمۡ ذُکۡرَانًا وَّ اِنَاثًا ۚ وَ یَجۡعَلُ مَنۡ یَّشَآءُ عَقِیۡمًا ؕ اِنَّهٗ عَلِیۡمٌ قَدِیۡرٌ ﴿۵۰﴾

অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। ৪২:৫০  আল-বায়ান 

اَوَ لَمۡ یَرَوۡا اَنَّ اللّٰهَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ وَ لَمۡ یَعۡیَ بِخَلۡقِهِنَّ بِقٰدِرٍ عَلٰۤی اَنۡ یُّحۡیِۦَ الۡمَوۡتٰی ؕ بَلٰۤی اِنَّهٗ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۳۳﴾

তারা কি দেখে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন আর এগুলোর সৃষ্টিতে তিনি ক্লান্ত হননি, তিনি মৃতদেরকে জীবন দিতে সক্ষম? অবশ্যই হ্যাঁ, নিশ্চয় তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। ৪৬:৩৩ আল-বায়ান 

 لَهٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ۚ یُحۡیٖ وَ یُمِیۡتُ ۚ وَ هُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۲﴾

আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব তাঁরই। তিনিই জীবন দেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন। আর তিনি সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।৫৭:২   আল-বায়ান 

عَسَی اللّٰهُ اَنۡ یَّجۡعَلَ بَیۡنَکُمۡ وَ بَیۡنَ الَّذِیۡنَ عَادَیۡتُمۡ مِّنۡهُمۡ مَّوَدَّۃً ؕ وَ اللّٰهُ قَدِیۡرٌ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۷﴾

যাদের সাথে তোমরা শত্রুতা করছ, আশা করা যায় আল্লাহ তোমাদের ও তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আর আল্লাহ সর্ব শক্তিমান এবং আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।৬০:৭  আল-বায়ান 

  یُسَبِّحُ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ ۚ لَهُ الۡمُلۡکُ وَ لَهُ الۡحَمۡدُ ۫ وَ هُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۱﴾

যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে এবং যা কিছু রয়েছে যমীনে, সবই আল্লাহর জন্য পবিত্রতা ঘোষণা করে। বাদশাহী তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। ৬৪:১ আল-বায়ান 

আলো

  یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا تُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰهِ تَوۡبَۃً نَّصُوۡحًا ؕ عَسٰی رَبُّکُمۡ اَنۡ یُّکَفِّرَ عَنۡکُمۡ سَیِّاٰتِکُمۡ وَ یُدۡخِلَکُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ ۙ یَوۡمَ لَا یُخۡزِی اللّٰهُ النَّبِیَّ وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَهٗ ۚ نُوۡرُهُمۡ یَسۡعٰی بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ بِاَیۡمَانِهِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اَتۡمِمۡ لَنَا نُوۡرَنَا وَ اغۡفِرۡ لَنَا ۚ اِنَّکَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۸﴾

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, নবী ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে। তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।’৬৬:৮  আল-বায়ান  

২০ هٰذَا بَصَآئِرُ لِلنَّاسِ وَ هُدًی وَّ رَحۡمَۃٌ لِّقَوۡمٍ یُّوۡقِنُوۡنَ ﴿۲۰﴾

এ কুরআন মানবজাতির জন্য আলোকবর্তিকা এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত।৪৫:২০   আল-বায়ান  

           ৫৭:২৮ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَ اٰمِنُوۡا بِرَسُوۡلِهٖ یُؤۡتِکُمۡ کِفۡلَیۡنِ مِنۡ رَّحۡمَتِهٖ وَ یَجۡعَلۡ لَّکُمۡ نُوۡرًا تَمۡشُوۡنَ بِهٖ وَ یَغۡفِرۡ لَکُمۡ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿ۚۙ۲۸﴾

হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন, তিনি স্বীয় রহমতে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন, আর তোমাদেরকে নূর দেবেন যার সাহায্যে তোমরা চলতে পারবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ৫৭:২৮ আল-বায়ান 

تَبٰرَکَ الَّذِیۡ بِیَدِهِ الۡمُلۡکُ ۫ وَ هُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرُۨ ۙ﴿۱﴾

বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব। আর তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।৬৭:১  আল-বায়ান 

https://www.hadithbd.com/quran/subjectwise/detail/?pageNum_tafsirquran=1&totalRows_tafsirquran=39&sub=8


 

ইলম বা জ্ঞান

کَفٰی بِاللّٰهِ عَلِیۡمًا ﴿۷۰﴾

আর সর্বজ্ঞ হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। ৪:৭০ আল-বায়ান 

 قَالُوۡا سُبۡحٰنَکَ لَا عِلۡمَ لَنَاۤ اِلَّا مَا عَلَّمۡتَنَا ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَلِیۡمُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۳۲

তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র মহান। আপনি আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন, তা ছাড়া আমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’। আল-বায়ান 

وَ لِلّٰهِ الۡمَشۡرِقُ وَ الۡمَغۡرِبُ ٭ فَاَیۡنَمَا تُوَلُّوۡا فَثَمَّ وَجۡهُ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ

আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও, সে দিকেই আল্লাহর চেহারা। নিশ্চয় আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। আল-বায়ান 

ؕ وَ هُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ﴿۲۹

আর সব কিছু সম্পর্কে তিনি সম্যক জ্ঞাত। ২:২৯ আল-বায়ান 

ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَلِیۡمُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۳۲

নিশ্চয় আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’। ২:৩২ আল-বায়ান

ؕ اِنَّ اللّٰهَ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ ﴿۱۱۵

 নিশ্চয় আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। ২:১১৫ আল-বায়ান 

رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّا ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ﴿۱۲۷

‘হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবূল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী’। ২:১২৭ আল-বায়ান 

فَاِنَّ اللّٰهَ شَاکِرٌ عَلِیۡمٌ

নিশ্চয় আল্লাহ (তার ব্যাপারে) গুণগ্রাহী এবং সর্বজ্ঞ। তাইসিরুল ২:১৫৮ আল-বায়ান 

 فَاِنَّ اللّٰهَ بِهٖ عَلِیۡمٌ

নিশ্চয় সে ব্যাপারে আল্লাহ সুপরিজ্ঞাত’। ২:২১৫ আল-বায়ান 

وَ اللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ ﴿۲۴۷

আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ’।২:২৪৭ আল-বায়ান

وَ اللّٰهُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ﴿۲۸۲

আর আল্লাহ সব বিষয়ে সম্যক জ্ঞানী। ২:২৮২ আল-বায়ান 

 وَ اللّٰهُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ عَلِیۡمٌ ﴿۲۸۳

আর তোমরা যা আমল কর, আল্লাহ সে ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত। ২:২৮৩ আল-বায়ান 



Comments

Popular posts from this blog

সৃষ্টি তত্ত্ব

স্ট্রিং (বাংলা) তত্ত্ব DRAFT

বিশ্ব জগৎ এবং তার বুদ্ধিদীপ্ত ক্রম বিকাশের ইতিহাস